ভারী স্কুল ব্যাগের স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভারী স্কুল ব্যাগের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশেষ করে শিশুর মেরুদন্ডের গড়নে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি শিশুর মেরুদন্ডে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ও ইনফেকশনের জন্য ভারী স্কুল ব্যাগ অনেকাংশে দায়ী। তাছাড়া কাঁধে ব্যথা, ব্যাকপেইন, শরীরের স্বাভাবিক গড়নে প্রভাবও ফেলে ভারী স্কুল ব্যাগ।

শিশুর পায়ুপথে পলিপ

শিশুর পায়ুপথে পলিপ

একটি সাধারণ সমস্যা, যা মূলত রেক্টামে (মলদ্বারের শেষ অংশ) হয়ে থাকে। পলিপ একটি ছোট টিউমারসদৃশ বৃদ্ধি যা সাধারণত মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ দেয়ালে গঠিত হয়। এটি বেনাইন (অর্থাৎ, ক্যান্সারবিহীন) হয় তবে, চিকিৎসকের নজরে আনাটা জরুরি।

লক্ষণসমূহ:➡️

  • মল ত্যাগের সময় রক্তপাত
  • মলের সাথে রক্ত মিশে যাওয়া
  • পায়ুর চারপাশে অস্বস্তি বা ব্যথা
  • মাঝে মাঝে শিশুর মলত্যাগে পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

চিকিৎসা:➡️

  1. ডায়াগনোসিস (নির্ণয়): চিকিৎসক সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, অ্যানোস্কপি বা সিগময়েডোস্কপি করে পলিপ শনাক্ত করেন। এই প্রক্রিয়াগুলো পায়ুপথের অভ্যন্তরীণ অবস্থা দেখার জন্য করা হয়।
  2. পলিপ অপসারণ: পলিপ যদি ছোট এবং সাধারণ হয়, তাহলে এটি সহজেই সার্জারি বা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে অপসারণ করা যেতে পারে।
  3. টিস্যু বিশ্লেষণ (বায়োপসি): পলিপ অপসারণের পরে, এটি বায়োপসির জন্য পাঠানো হতে পারে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি বেনাইন এবং কোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি নেই।
  4. পর্যবেক্ষণ: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, একবার পলিপ অপসারণের পরে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তবে যদি পলিপগুলো বারবার ফিরে আসে, তাহলে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুর ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সঠিক সময়মতো নির্ণয় ও চিকিৎসা করা যায়।

(ছবিটা অপারেশন করে কেটে ফেলা পলিপের )

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস, এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

মাঙ্কি পক্স কি?

মাঙ্কি পক্স কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক বিশেষ ধরনের বসন্ত রোগ। জলবসন্ত বা গুটিবসন্তের প্রতিকার থাকলেও বিরল এ রোগটি নিরাময়ে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসাপদ্ধতি নেই।

💢 রোগের প্রাথমিক লক্ষণ কী?

  • গায়ে বসন্তের মতো গুঁটি
  • জল ফোসকা
  • প্রচণ্ড জ্বালা
  • সঙ্গে জ্বর
  • কাঁপুনি ও ক্লান্তি
  • মাথা যন্ত্রণা
  • পিঠে ও গায়ে ব্যথা

জ্বর শুরু হওয়ার পর দেহে গুটি দেখা দেয়। এসব গুটি শুরুতে দেখা দেয় মুখে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে হাত এবং পায়ের পাতাসহ দেহের অন্যান্য জায়গায়। এই গুটির জন্য রোগী দেহে খুব চুলকানি হয়। পরে গুটি থেকে ক্ষত দেখা দেয়। জল বসন্তের মতোই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও দেহে সেই ক্ষত চিহ্ন রয়ে যায়।

💢 কিভাবে ছড়ায় ?
সংক্রমিত রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। আগে চিকিৎসকদের ধারণা ছিল ‘ড্রপলেট’-এর মাধ্যমেই ছড়ায় এ রোগ। তাই বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিলেন, শ্বাসনালি, ক্ষত স্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এ ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। কিন্তু নতুন আক্রান্তদের পরীক্ষা করে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, যৌন মিলনের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে মাঙ্কি ভাইরাস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বানর, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, এমনকি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত বিছানাপত্র থেকেও এই ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

💢 চিকিৎসা :
এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। তবে যে কোনো ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মতই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে এর প্রকোপ রোধ করা যায়। মাঙ্কিপক্সের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টিকাও নেই। তবে গুটিবসন্তের ভাইরাসের সঙ্গে মাঙ্কিপক্সের জীবাণুর মিল রয়েছে। ফলে গুটিবসন্তের টিকা নেওয়া থাকলে তা মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে।

💢 মাঙ্কি পক্স কিভা‌বে প্রতিরোধ করবেন?

  • ভাইরাসকে আশ্রয় করতে পারে এমন প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
  • অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শে থাকা বিছানার মতো যে কোনও উপকরণের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
  • সংক্রামিত রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন ।
  • সংক্রামিত প্রাণী বা মানুষের সংস্পর্শে আসার পরে ভাল ভাবে সাবান এবং পানি দিয়ে আপনার হাত ধৌত করুন।
  • রোগীদের যত্ন নেওয়ার সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

যেহেতু এ রোগ সাধারণভাবে প্রাণঘাতী নয় এবং সাধারণত রোগ দেখা দেওয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাই এটি নিয়ে উদ্বেগের তেমন কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
Hotline: 01777-331511
শিশু সার্জারী বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট

নবজাতকের নাভির যত্ন

নবজাতকের নাভির যত্ন

নবজাতকের নাভির যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নবজাতকের নাভির চারপাশের স্থানটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি সংক্রমণের প্রবণ হতে পারে। নিচে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হল:

  1. পরিষ্কার রাখা: নবজাতকের নাভির স্থানটি পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে। প্রতিদিন সাবান এবং পানি দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করুন। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিন।
  2. শুষ্ক রাখা: নাভির স্থানটি সবসময় শুষ্ক রাখুন। গোসলের পর ভালভাবে শুকিয়ে নিন।
  3. পোশাক: নবজাতকের পোশাক পরানোর সময় নাভির স্থানটি যেন বাতাস পেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এছাড়াও, এমন পোশাক পরান যা নাভির উপর চাপ সৃষ্টি না করে।
  4. নাভি পড়ে যাওয়া: সাধারণত নবজাতকের নাভির গোছা জন্মের পর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পড়ে যায়। যদি এই সময়ের মধ্যে পড়ে না, বা কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  5. সংক্রমণ প্রতিরোধ: নাভির চারপাশে লালচে হয়ে যাওয়া, ফোলা, পুঁজ বের হওয়া বা দুর্গন্ধ হলে, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এগুলো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
  6. অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ এড়ানো: অপ্রয়োজনীয়ভাবে নাভি স্পর্শ করবেন না। প্রয়োজন ছাড়া এটি না ছোঁয়াই ভাল।

এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে নবজাতকের নাভির যত্ন সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে। যদি কোন প্রশ্ন বা সন্দেহ থাকে, তবে শিশুর চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ করতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব :

♻️ ১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
দেহের হাইড্রেশন বজায় রাখতে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করলে প্রস্রাবে খনিজ এবং বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব কম থাকে, যা পাথর গঠনের ঝুঁকি কমায়।

♻️ ২. সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন:
কম লবণ: খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। লবণ ক্যালসিয়ামের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়।

অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার নিয়ন্ত্রণ: পালং শাক, বিট, বাদাম, চকোলেট, এবং চা-এর মতো অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত পরিমাণে খান।

প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন, যেমন: লাল মাংস, ডিম, মাছ সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। কারণ অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে খান: ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত পরিমাণে খান, কারণ ক্যালসিয়ামের অভাব পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টেশনের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

♻️ ৩. প্রস্রাব আটকে না রাখা:
প্রস্রাব আটকে না রাখা জরুরি, কারণ প্রস্রাব আটকে রাখলে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

♻️ ৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম:
নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন। শারীরিক কার্যক্রম কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং পাথর গঠনের ঝুঁকি কমায়।

♻️ ৫. ভিটামিন সি এবং ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত ভিটামিন সি এবং ডি সাপ্লিমেন্ট কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

♻️ ৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ:
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন। অতিরিক্ত ওজন কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ

♻️ ৭. নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ:
কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলি করান।

এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস, এমএস( শিশু সার্জারী)
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
https://www.facebook.com/Dr.Nazmul.Islam

কিডনি ভালো রাখার কয়টি উপায়

কিডনি ভালো রাখার কয়টি উপায়

অনেকের মুখেই শোনা যায় কিডনির সমস্যা। কিডনির চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই যে কোনো রোগ হওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তাই কিডনি ভালো রাখতে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে।

কিডনি ভালো রাখতে খুব বেশি নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। মাত্র ৫টি নিয়ম মেনে চললে সারা জীবন ভালো থাকবে আপনার কিডনি।

শরীরে পরিষ্কার রক্তপ্রবাহের পেছনে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কিডনির ইলেক্ট্রোলাইট ও ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই কিডনি ভালো রাখতে পারলে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসও ভালো তাকে।

কিডনিতে পাথরের সমস্যার কথা আপনার অবশ্যই শুনেছেন। এছাড়া কিডনির ইনফ্ল্যামেশন, রেনাল ফেইলুর, নেফরোটিক সিন্ড্রম ও সিস্টের সমস্যা হলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।

তবে যা কিছু্ই হোক না কেন। একটি বিষয় সব সময় মনে রাখবেন তা হলো। আপনার কিডনি সুস্থ রাখতে হবে। কিডনি ভালো রাখা কঠিন কোনো বিষয় নয়। মাত্র কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই কিডনি ভালো থাকবে।

পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন

কিডনি সুস্থ রাখতে হলে বিশুদ্ধ পানি পানের বিকল্প নেই। প্রচুর পানি পান করুন। পানি কিডনিকে সচল রাখতে ও কিডনির স্বাভাবিক কার্যকলাপে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে কিডনি ভালো থাকবে।

কোমল পানীয়, কফি, চা

আমরা কোমল পানীয়, কফি, চাসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে থাকি। ক্যাফেইন তাৎক্ষণিকভাবে শারীরে ক্লান্তিভাব দূর করে।
তবে পানিস্বল্পতা তৈরি করে। শরীরে পানিস্বল্পতা হলে কিডনি স্টোনের সমস্যা হতে পারেন।তাই সতর্ক হোন।

ধূমপান

ধূমপান একটি ভয়াবহ বদঅভ্যাস।ধূমপানের ফলে ফুসফুস ও ব্লাড ভ্যাসেলকেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মনে রাখবেন ধূমপান শুধু নিজের জন্য না অন্যের জন্য ক্ষতিকর।তাই ধূমপান ত্যাগ করুন।

পেইন কিলার

সামান্য ব্যথা হলেই পেইন কিলার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আজই তা ত্যাগ করুন। কিডনির কোষের অতিরিক্ত ক্ষতি করে পেইন কিলার। ব্যথা একান্ত অসহ্য হলে তবেই তা খান।

লবণ

খাওয়ার পাতে লবণ খান খুব? এ অভ্যাসে রাশ টানুন আজই। কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীর থেকে বের করতে পারে না। ফলে বাড়তি লবণের সোডিয়ামটুকু রয়ে যায় কিডনিতেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি।

প্রস্রাব আটকে রাখা

সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে চান না, তাই বাইরে বেরোলে আটকে রাখেন প্রস্রাব? এমন অভ্যাস কিন্তু শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। অনেকক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে তা কিডনিতে চাপ তো ফেলেই, এমনকি, চিকিৎসকদের মতে, এমন অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখলে অচিরেই নষ্ট হতে পারে কিডনি।

মাংস না খেয়ে মাছ-শাকসবজি খান। চর্বি কিডনির জন্য খুব ক্ষতিকারক। মাংসের ফাইবারও পরিমাণে বেশি হলে তা কিডনির ওপর চাপ ফেলে। তাই ঘন ঘন মাংস খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা কমান, খেলেও খুব পরিমাণ মেপে খান।

Haemangioma

Haemangioma

Haemangioma হলো রক্তনালীর টিউমার বা ম্যালফরমেশন। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত
রক্তনালীতেও টিউমার/ ম্যালফরমেশন হতে পারে। এগুলো শিশুর জন্মগত সমস্যা । তবে উপসর্গ বা টিউমার প্রকাশ পায় বিভিন্ন বয়সে । সাধারণত জন্মের সময় ( congenital Haemangioma) দেখা যায় আবার কিছু কিছু (Infantile Haemangioma) জন্মের কিছুদিন পর থেকে দেখা যায় এবং আস্তে আস্তে বড় হয়। ১ বছর পর কিছু কিছু কমতে শুরু করে। আক্রান্ত স্থানে ফোলা দেখা দেয় । চামড়ার রং বদলে যেতে থাকে, শরীরের অন্য স্থান হতে একটু গরম থাকে, ব্যথা পেলে মাঝে মাঝে রক্তক্ষরণও হতে পারে, ইনফেকশন হতে পারে । টিউমার ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের হয় । কখনও কখনও টিউমার পুরো হাত বা পা দখল করে । চামড়ার নীচে, গোশতের মধ্যে, হাড়ের মধ্যে, হাড়ের জোড়ার মধ্যে, পেটের মধ্যে, বুকের মধ্যে এমনকি ব্রেইনের মধ্যেও এই টিউমার দেখা দিতে পারে ।

♦ চিকিৎসা :
🔹 মুখে খাওয়ার ঔষধ ( বিটা ব্লকার)
🔹 ইঞ্জেকশন থেরাপী (Sclerotherapy)
🔹 অপারেশন
ঔষধ এ না কমলে অপারেশন করতে হয়।

নিচের রুগি মুখে খাওয়ার ঔষধেই ভালো হয়ে গেছে।

ডাঃ নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস, এমএস (শিশু সার্জারী)
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট
( ঢাকা শিশু হাসপাতাল)
Hotline: 01777-331511