হাইড্রোসিল (Hydrocele)

অন্ডকোষে কেন পানি জমে?

অন্ডকোষে পানি জমাকে হাইড্রোসিল (Hydrocele) বলা হয়। এটি সাধারণত একটি ব্যথাহীন অবস্থা, যেখানে অন্ডকোষের চারপাশে স্বচ্ছ তরল জমে এবং ফুলে যায়। এটি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হতে পারে।

হাইড্রোসিলের প্রধান কারণগুলো :

হাইড্রোসিল (Hydrocele) হওয়ার প্রধান কারণগুলো বয়সভেদে ভিন্ন হয়। এটি সাধারণত অন্ডকোষের চারপাশে সেরাস ফ্লুইড জমার কারণে হয়, যা ব্যথাহীন ফোলাভাব সৃষ্টি করে।

১. শিশুদের হাইড্রোসিলের কারণ:

  • প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস-এর বন্ধ না হওয়া:
  • গর্ভাবস্থায় অন্ডকোষ পেটের ভিতরে থাকে এবং পরে স্ক্রোটামে নেমে আসে। এই প্রক্রিয়ায় একটি টিউনেল (প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস) থাকে, যা স্বাভাবিকভাবে জন্মের পর বন্ধ হয়ে যায়।
  • যদি এটি সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়, তবে পেটের তরল স্ক্রোটামে চলে এসে হাইড্রোসিল তৈরি করে।
  • ৯০% ক্ষেত্রে এটি ১-২ বছরের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়

২. প্রাপ্তবয়স্কদের হাইড্রোসিলের কারণ:

  • আঘাত বা ইনফেকশন:
  • অন্ডকোষে আঘাত, সংক্রমণ (এপিডিডাইমাইটিস, অর্কাইটিস) বা অস্ত্রোপচারের পর তরল উৎপাদন বেড়ে গেলে।
  • অন্ডকোষ বা স্ক্রোটামের রোগ:
  • টেস্টিকুলার টিউমার, ভ্যারিকোসিল বা হার্নিয়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • ফাইলেরিয়াসিস বা অন্যান্য পরজীবী সংক্রমণে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বাধাগ্রস্ত হলে।
  • অজানা কারণ (Idiopathic):
  • অনেক ক্ষেত্রে সঠিক কারণ জানা যায় না, বিশেষত বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে।

ঝুঁকির факরগুলো:

  • বাচ্চাদের মধ্যে: প্রিম্যাচিউর বেবি বা কম ওজনের শিশুদের বেশি দেখা যায়।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে:
  • স্ক্রোটাল ইনজুরি বা সার্জারি।
  • যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন।
  • ট্রপিক্যাল দেশে ফাইলেরিয়াসিসের সংস্পর্শ।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

  • ফোলা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে বা ব্যথা হলে।
  • স্ক্রোটাম লাল, গরম বা জ্বর আসলে (সংক্রমণের লক্ষণ)।
  • অন্ডকোষ শক্ত বা ভারী মনে হলে (টিউমার রুল আউট করার জন্য)।

হাইড্রোসিল সাধারণত *বিপজ্জনক নয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বস্তিকর হলে *সার্জারি (Hydrocelectomy) প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক ডায়াগনোসিসের জন্য শিশু ইউরোলজিস্ট-এর শরণাপন্ন হোন।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
শিশু সার্জারী ও শিশু ইউরোলোজি বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511

বাঁকা লিঙ্গ (Penile Curvature বা Curved Penis)

বাঁকা লিঙ্গ (Penile Curvature বা Curved Penis)

বাঁকা লিঙ্গ (Penile Curvature বা Curved Penis)* বলতে লিঙ্গের স্বাভাবিক সোজা আকৃতির পরিবর্তে এক বা একাধিক দিকে (উপর, নিচ, ডান বা বামে) বেঁকে যাওয়াকে বোঝায়। এটি ইরেকশন (শিশ্নোত্থান) এর সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং বিভিন্ন মাত্রার হতে পারে।

বাঁকা লিঙ্গের প্রকারভেদ:

  1. জন্মগত বাঁকা লিঙ্গ (Congenital Curvature):
  • জন্ম থেকেই উপস্থিত, সাধারণত কর্ডি (Chordee) বা হাইপোস্পেডিয়াস (Hypospadias) এর সাথে সম্পর্কিত।
  • ইরেকশনে বাঁকা হয়, কিন্তু সাধারণত ব্যথা থাকে না।
  1. অর্জিত বাঁকা লিঙ্গ (Acquired Curvature):
  • পেয়রোনি রোগ (Peyronie’s Disease) প্রধান কারণ, যেখানে লিঙ্গের ভেতরে অস্বাভাবিক ফাইব্রোস টিস্যু (স্কার টিস্যু) জমে।
  • ইরেকশনে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
  • আঘাত, বারবার মাইক্রোট্রমা বা বয়সের সাথে সম্পর্কিত।

বাঁকা লিঙ্গের দিক:

  • ডরসাল কার্ভ (উপরের দিকে বাঁকা)
  • ভেন্ট্রাল কার্ভ (নিচের দিকে বাঁকা)
  • ল্যাটারাল কার্ভ (ডান বা বামে বাঁকা)

*কারণ:*

শিশুদের লিঙ্গে বাঁকা ভাব (Congenital Penile Curvature বা Chordee) দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত *জন্মগত ত্রুটি* বা বিকাশগত সমস্যার কারণে হয়। এর প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:

### ১. *জন্মগত বাঁকা লিঙ্গ (Congenital Penile Curvature)*
– কিছু শিশুর *জন্ম থেকেই* লিঙ্গের গঠনগত ত্রুটি থাকে, যেখানে লিঙ্গের নিচের দিকের চামড়া বা টিস্যু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা টাইট হয়ে বাঁকা ভাব তৈরি করে।
– এটি *হাইপোস্পেডিয়াস (Hypospadias)* নামক অবস্থার সাথে যুক্ত হতে পারে (যেখানে মূত্রনালীর মুখ স্বাভাবিক স্থানের বদলে নিচে থাকে)।

### ২. *কর্ডি (Chordee)*
– এটি একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে লিঙ্গের নিচে টিস্যু বা তন্তু (ফাইব্রাস টিস্যু) টানটান হয়ে বাঁকা করে দেয়।
– কর্ডি *হাইপোস্পেডিয়াস ছাড়াও* স্বতন্ত্রভাবে হতে পারে।

### ৩. *টিস্যু বা পেশীর অস্বাভাবিক বিকাশ*
– লিঙ্গের একপাশের টিস্যু বা কর্পোরা ক্যাভারনোসা (ইরেক্টাইল টিস্যু) ঠিক মতো বিকাশ না হলে বাঁকা ভাব দেখা দিতে পারে।

৪. *স্কার টিস্যু বা আঘাত (দুর্লভ ক্ষেত্রে)*
– জন্মের সময় বা পরে কোনো আঘাতের কারণে লিঙ্গে স্কার টিস্যু জমে বাঁকা হতে পারে (তবে এটি শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই বিরল)।

*কখন চিকিৎসা প্রয়োজন?*
– যদি বাঁকা ভাব *এতটাই বেশি হয় যে প্রস্রাবের প্রবাহে সমস্যা হয়*।
– যদি বাচ্চার *ইরেকশন (শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা) এর সময় ব্যথা বা অস্বস্তি হয়*।
– হাইপোস্পেডিয়াস বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ত্রুটি থাকলে।

### *চিকিৎসা পদ্ধতি*
– *হালকা ক্ষেত্রে:* পর্যবেক্ষণ করা হয়, কারণ কিছু শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
– *তীব্র বা জটিল ক্ষেত্রে:* *শিশু ইউরোলজিস্ট* সার্জারির মাধ্যমে (যেমন: কর্ডি রিলিজ, হাইপোস্পেডিয়াস রিপেয়ার) সংশোধন করেন।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
শিশু সার্জারী ও শিশু ইউরোলোজি বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)
www.drnazmulislam.com

শিশুর হার্নিয়া শিশুর কুচকির হার্নিয়া Hernia in children

শিশুর হার্নিয়া (Hernia in children)

হার্নিয়া (Hernia)* হলো একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে পেট বা উদরের ভিতরের অঙ্গ (যেমন অন্ত্র, চর্বি ইত্যাদি) পেশী বা কোষের দুর্বল স্থান দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং ত্বকের নিচে একটি ফোলা বা গোটা তৈরি করে। এটি সাধারণত কুচকি (Groin), নাভি (Belly button), বা অস্ত্রোপচারের দাগের কাছে দেখা যায়।

হার্নিয়ার প্রকারভেদ:

  1. ইনগুইনাল হার্নিয়া (Inguinal Hernia):
  • *সবচেয়ে সাধারণ, বিশেষত *পুরুষদের মধ্যে।
  • কুচকি বা অণ্ডকোষে ফোলা দেখা যায়।
  1. আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া (Umbilical Hernia):
  • নাভির কাছে হয়, সাধারণত নবজাতক ও শিশুদের মধ্যে দেখা যায়।
  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সেরে যায় (৫ বছর বয়সের মধ্যে)।
  1. ফিমোরাল হার্নিয়া (Femoral Hernia):
  • মহিলাদের বেশি হয়, কুচকির নিচে ফোলা দেখা যায়।
  • ইনগুইনাল হার্নিয়ার চেয়ে জটিলতা বেশি।
  1. ইনসিশনাল হার্নিয়া (Incisional Hernia):
  • পূর্বের অস্ত্রোপচারের দাগে হয়।
  1. হাইটাল হার্নিয়া (Hiatal Hernia):
  • পাকস্থলীর অংশ ডায়াফ্রামের মাধ্যমে বুকের দিকে চলে আসে।

শিশুর কুচকির হার্নিয়া (Inguinal Hernia) একটি সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে প্রিমাচিউর বা কম ওজনের শিশুদের ক্ষেত্রে। এটি যখন পেটের ভিতরের অংশ (যেমন অন্ত্র) কুচকির (Groin) এলাকায় চাপের কারণে বেরিয়ে আসে, তখন একটি নরম ফোলা দেখা দেয়।

কারণ:

  • জন্মগত ত্রুটি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, জন্মের সময় পেট ও কুচকির মধ্যকার প্রাচীর দুর্বল থাকার কারণে হয় (প্রক্রিয়াটি সাধারণত জন্মের আগে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু কিছু শিশুর তা হয় না)।
  • পুরুষ শিশুদের বেশি দেখা যায় (বিশেষত অণ্ডকোষে নামার সময়)।
  • মেয়েশিশুদেরও হতে পারে, তবে কম সাধারণ।

লক্ষণ:

  • কুচকিতে বা অণ্ডকোষে (ছেলেদের) নরম ফোলা, যা কাঁদলে বা চাপ দিলে বড় হয়, শুয়ে থাকলে ছোট হয়ে যায়।
  • ব্যথা বা অস্বস্তি (যদি হার্নিয়া আটকে যায়)।
  • বমি, খাওয়াতে অনীহা, ফোলা লাল হয়ে যাওয়া (জরুরি অবস্থা)।

ঝুঁকি:

  • ইনকারসারেশন বা স্ট্র্যাংগুলেশন (হার্নিয়া আটকে গেলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে টিস্যু নষ্ট হতে পারে) – এটি একটি জরুরি অবস্থা, দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

চিকিৎসা:

  • অস্ত্রোপচার (হার্নিওরাফি): শিশুর হার্নিয়া সাধারণত নিজে থেকে সেরে না, তাই সার্জারি প্রয়োজন। এটি একটি রুটিন অপারেশন, সাধারণত ল্যাপারোস্কোপিক বা ওপেন পদ্ধতিতে করা হয়।
  • জরুরি অপারেশন: যদি হার্নিয়া আটকে যায় বা ব্যথা হয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

  • কুচকিতে ফোলা দেখলে।
  • শিশু অতিরিক্ত কাঁদলে, বমি করলে বা ফোলা লাল হলে।

মনে রাখবেন: শিশুর হার্নিয়া বড়দের মতো নয়, এটি সাধারণত জন্মগত এবং সময়মতো চিকিৎসা করালে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। বাড়িতে কোনো চাপ দেওয়া বা হার্নিয়া ব্যান্ড ব্যবহার করবেন না। দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক সার্জনের পরামর্শ নিন।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

একটি অন্ডকোষ কেন হয়? কিভাবে হয়? অন্ডকোষ না নামলে কি সমস্যা হয়?

একটি অন্ডকোষ (Undescended testis)

“Undescended testis” এর বাংলা হলো অবনমিত অণ্ডকোষ বা অবতীর্ণ না হওয়া অণ্ডকোষ।

এটি এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে জন্মের সময় এক বা দুটি অণ্ডকোষ ছেলে শিশুর অণ্ডথলিতে নামেনি। সাধারণত অণ্ডকোষ গর্ভাবস্থায় উদর থেকে নিচে অণ্ডথলিতে নেমে আসে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা নামতে দেরি হয় বা একেবারেই নামে না।

১. কেন হয় Undescended Testis (অবনমিত অণ্ডকোষ)?

গর্ভাবস্থায় যখন একটি ছেলে শিশু গঠিত হয়, তখন তার অণ্ডকোষ (testis) পেটের ভেতরে তৈরি হয়। জন্মের আগে, এটি পেট থেকে নেমে অণ্ডথলিতে চলে আসে। কিন্তু কিছু কারণে এটি নামতে না-ও পারে।

এর কারণগুলো হতে পারে:
• জন্মের আগে শিশু যদি অপরিপক্ক (preterm) হয়।
• হরমোনের সমস্যা।
• পেটে বা অণ্ডকোষে কোনো শারীরিক গঠনগত সমস্যা।
• পরিবারে কারো আগে এই সমস্যা থাকলে।
• মা যদি গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা অ্যালকোহল পান করে থাকেন।

২. কিভাবে হয়?
• পেটের ভেতরে তৈরি হওয়া অণ্ডকোষ একটা বিশেষ রাস্তা দিয়ে নিচে নেমে আসে অণ্ডথলিতে।
• সেই রাস্তা যদি সঠিকভাবে কাজ না করে বা হরমোনের সমস্যা থাকে, তাহলে অণ্ডকোষ নিচে নামে না।
• তখন এক বা দুই পাশে অণ্ডথলি খালি দেখা যায়।

৩. চিকিৎসা কী?

সাধারণত শিশুর জন্মের পর ৬ মাসের মধ্যে অণ্ডকোষ নিজে নিজেই নিচে নেমে আসে।

যদি না নামে, তাহলে:
• ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা দরকার।
• অস্ত্রোপচার (surgery) হলো সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। এর নাম Orchiopexy।
• এই অপারেশনে অণ্ডকোষকে নিচে নামিয়ে অণ্ডথলিতে ঠিকঠাক জায়গায় বসানো হয়।
• সাধারণত এটা খুব ছোট সার্জারি, এবং বাচ্চারা দ্রুত ঠিক হয়ে যায়।

অণ্ডকোষ (testis) যদি না নামে তাহলে ভবিষ্যতে কিছু সমস্যা হতে পারে। নিচে সেগুলো সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছি:

১. সন্তান হওয়ার সমস্যা (Infertility)
• অণ্ডকোষ যদি শরীরের ভেতরে থাকে, তাহলে তার তাপমাত্রা বেশি হয়।
• এতে করে শুক্রাণু (sperm) তৈরি ঠিকমতো হয় না।
• ফলে বড় হয়ে সন্তানের বাবা হতে সমস্যা হতে পারে।

২. ক্যান্সারের ঝুঁকি (Testicular Cancer)
• যাদের অণ্ডকোষ নামেনি, তাদের অণ্ডকোষে টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি একটু বেশি।
• তাই যত তাড়াতাড়ি ঠিক করা হয়, তত ভালো।

৩. আঘাতের ভয়
• পেটের ভেতরে বা অন্য কোথাও থাকা অণ্ডকোষ সহজে চাপে পড়ে বা আঘাত পেতে পারে।

৪. অণ্ডথলি অসমান বা ফাঁপা দেখায়
• একটি বা দুইটি অণ্ডকোষ না নামলে অণ্ডথলি (scrotum) অসমান দেখা যায়।
• এতে করে কিছু বাচ্চা লজ্জা পেতে পারে বা আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।

৫. পেঁচিয়ে যাওয়া (Torsion)
• না নামা অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যেতে পারে, এতে ব্যথা ও ক্ষতি হতে পারে।

৬. হার্নিয়া (Inguinal Hernia)
• অনেক সময় যেখানে অণ্ডকোষ নামার কথা, সেই রাস্তাটা খোলা থেকে গেলে হার্নিয়াও হতে পারে।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

শিশুর ছোট লিঙ্গ Buried Penis

শিশুর ছোট লিঙ্গ / Buried Penis

“Buried penis” বাংলায় “প্রচ্ছন্ন লিঙ্গ” বা “ঢেকে যাওয়া লিঙ্গ” বলা যেতে পারে। এটি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে পুরুষের লিঙ্গ চামড়া, চর্বি বা অন্যান্য টিস্যুর কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢাকা থাকে। এই সমস্যা জন্মগত হতে পারে বা স্থূলতা, আঘাত বা অস্ত্রোপচারের কারণে দেখা দিতে পারে।

১. কীভাবে বুঝবেন যে এটি প্রকৃত সমস্যা?

সব পুরুষের লিঙ্গের আকার একরকম নয়, তবে যদি মনে হয় যে লিঙ্গ শরীরের ভেতরে লুকিয়ে আছে এবং স্বাভাবিকভাবে দৃশ্যমান নয়, তাহলে এটি “প্রচ্ছন্ন লিঙ্গ” হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• লিঙ্গ খুব ছোট মনে হয় বা একেবারে দেখা যায় না।
• প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়।
• লিঙ্গ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
• লিঙ্গের চামড়া বা আশেপাশের টিস্যুতে ফোলা বা অস্বাভাবিক চর্বি জমে থাকে।

২. কোন কোন সমস্যার কারণ হতে পারে?

প্রচ্ছন্ন লিঙ্গ থাকলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন—

✅ প্রস্রাবের সমস্যা:
• লিঙ্গ ঢেকে থাকার কারণে প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয়।
• প্রস্রাব ঠিকমতো বের না হলে সংক্রমণ (UTI) হতে পারে।

✅ যৌনজীবনে সমস্যা:
• পূর্ণ বয়সে এটি যৌন সম্পর্কের সময় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
• আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।

✅ সংক্রমণ ও চুলকানি:
• লিঙ্গের আশেপাশের এলাকায় ঘাম ও ময়লা জমে গিয়ে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে।
• দীর্ঘদিন সমস্যাটি থাকলে লিঙ্গ ও আশেপাশের চামড়ায় প্রদাহ বা ঘা হতে পারে।

✅ মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব:
• অনেকে লজ্জা বা হীনমন্যতায় ভোগেন।
• শিশুর ক্ষেত্রে এটি ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করতে পারে।

৩. চিকিৎসা ও সমাধান আরও বিস্তারিত

এটি নির্ভর করে রোগীর বয়স, শারীরিক গঠন, এবং সমস্যার মূল কারণের ওপর।

✔️ শিশুদের জন্য চিকিৎসা:
• অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে সমস্যাটি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
• যদি এটি জন্মগত হয় এবং স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ডাক্তার লিগামেন্ট ঠিক করার জন্য ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করতে পারেন।

✔️ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চিকিৎসা:
✅ ওজন কমানোর পরামর্শ:
• যদি স্থূলতা সমস্যা হয়, তবে প্রথম ধাপে ওজন কমানো যেতে পারে।
• নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা দরকার।

✅ ওষুধ ও থেরাপি:
• সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করা হয়।
• ব্যথা থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হতে পারে।

✅ সার্জারি (অস্ত্রোপচার) যদি প্রয়োজন হয়:
1️⃣ লিগামেন্ট কাটিং: লিঙ্গের সাথে সংযুক্ত টিস্যুগুলো শিথিল করা হয়, যাতে লিঙ্গ বাইরে বেরিয়ে আসে।
2️⃣ লিপোসাকশন: পেট ও তলপেটের অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে ফেলা হয়।
3️⃣ স্কিন রিকনস্ট্রাকশন (চামড়ার পুনর্গঠন): চামড়ার সমস্যা থাকলে এটি সারিয়ে তোলা হয়।

৪. কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

✔ স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
✔ লিঙ্গ ও আশেপাশের অংশ পরিষ্কার রাখা।
✔ কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
✔ যদি জন্মগত সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত সার্জারির বিষয়ে চিন্তা করা।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

জন্মগত / গায়েবানী মুসলমানি (Glandular Hypospadias)

জন্মগত / গায়েবানী মুসলমানি (Glandular Hypospadias)

গায়েবানী মুসলমানি বলতে সাধারণত গ্ল্যান্ডুলার হাইপোস্পাডিয়াস বোঝায়, যা জন্মগত একটি অবস্থা। এতে শিশুর লিঙ্গের মূত্রনালী (urinary opening) স্বাভাবিক স্থানে না থেকে কিছুটা নিচের দিকে থাকে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে মনে হতে পারে যে খৎনা (মুসলমানি) স্বাভাবিকভাবেই হয়ে গেছে।

১. হাইপোস্পাডিয়াস কী?

হাইপোস্পাডিয়াস হল এমন একটি জন্মগত অবস্থা যেখানে শিশুর লিঙ্গের মূত্রনালী সঠিক স্থানে না থেকে লিঙ্গের নিচের অংশে অবস্থান করে। সাধারণত লিঙ্গের মাথার ঠিক মাঝখানে ছিদ্র থাকার কথা, কিন্তু হাইপোস্পাডিয়াস থাকলে তা নিচে চলে যায়।

✅ গ্ল্যান্ডুলার হাইপোস্পাডিয়াস: এটি হাইপোস্পাডিয়াসের সবচেয়ে হালকা ধরণ, যেখানে ছিদ্রটি লিঙ্গের অগ্রভাগে থাকে তবে নিচের দিকে।
✅ করোনাল, পেনাইল ও পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পাডিয়াস: এগুলো অপেক্ষাকৃত গুরুতর অবস্থার মধ্যে পড়ে।

২. গায়েবানী মুসলমানির কারণ কী?

এটি মূলত জন্মগত একটি সমস্যা, যা সাধারণত শিশুর ভ্রূণ অবস্থায় লিঙ্গের গঠনে কিছু পরিবর্তনের কারণে হয়।

মূল কারণসমূহ:

✔ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: গর্ভাবস্থায় শিশুর টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ কম হলে লিঙ্গের গঠন সঠিকভাবে হয় না।
✔ জেনেটিক কারণ: যদি পরিবারের কারও আগে এই সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে এটি শিশুর মধ্যেও আসতে পারে।
✔ পরিবেশগত কারণ: গর্ভাবস্থায় কিছু রাসায়নিক বা ওষুধের প্রভাব শিশুর লিঙ্গের বিকাশে বাধা দিতে পারে।
✔ অপর্যাপ্ত টিস্যু বৃদ্ধি: লিঙ্গের অগ্রভাগের টিস্যুগুলো সঠিকভাবে না বাড়লে মূত্রনালী নিচের দিকে থাকতে পারে।

৩. গায়েবানী মুসলমানির লক্ষণ ও চিহ্ন

✅ লিঙ্গের ছিদ্র স্বাভাবিক স্থানে না থেকে নিচের দিকে থাকে।
✅ প্রস্রাব করার সময় মূত্রের প্রবাহ সামান্য বাঁকা হতে পারে।
✅ লিঙ্গের সামান্য বাঁক থাকতে পারে, যদিও এটি গুরুতর না হলে তেমন সমস্যা হয় না।
✅ অনেক ক্ষেত্রে খৎনা (circumcision) না করলেও মনে হয় যে খৎনা হয়ে গেছে।

৪. সমস্যাগুলো কী হতে পারে?

যদি হালকা হয় (গ্ল্যান্ডুলার হাইপোস্পাডিয়াস), তাহলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে—

✅ শিশুদের ক্ষেত্রে:
• প্রস্রাবের প্রবাহ ঠিকমতো না হওয়া।
• লিঙ্গের সামান্য বাঁক থাকা।

✅ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে:
• ভবিষ্যতে যৌনজীবনে সমস্যা হতে পারে (যদি লিঙ্গের বাঁক গুরুতর হয়)।
• সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে (খুব গুরুতর অবস্থায়)।
• ব্যক্তিগত ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

৫. গায়েবানী মুসলমানির চিকিৎসা ও সমাধান

চিকিৎসা দরকার হয় কি না?

✔ যদি মূত্রনালী খুব সামান্য নিচে থাকে এবং কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে চিকিৎসার দরকার নেই।
✔ যদি প্রস্রাবের সমস্যা হয় বা লিঙ্গের বাঁক বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসা করা দরকার।

চিকিৎসার ধাপ:

✅ নিরীক্ষা: শিশুর জন্মের পর ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেন যে এটি কোনো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করছে কিনা।
✅ সার্জারি (প্রয়োজন হলে):
1️⃣ মূত্রনালীর ছিদ্র ঠিক করা হয় (Urethroplasty)।
2️⃣ যদি লিঙ্গ বাঁকা থাকে, তবে সেটিও ঠিক করা হয়।
3️⃣ সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে সার্জারি করা হয়।
4️⃣ সার্জারির পর শিশুর প্রস্রাবের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে।

সার্জারির পরে করণীয়:

✔ শিশুকে ১-২ সপ্তাহ বিশেষ যত্নে রাখা হয়।
✔ ডাক্তার কিছু ওষুধ ও ব্যথানাশক দিতে পারেন।
✔ প্রস্রাবের নালি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

৬. সার্জারি ছাড়া কি এটি ঠিক হয়?

✔ যদি খুব হালকা হয় এবং কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে সার্জারি প্রয়োজন হয় না।
✔ তবে যদি প্রস্রাব করতে সমস্যা হয় বা ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে, তাহলে ডাক্তার সার্জারির পরামর্শ দিতে পারেন।

৭. ভবিষ্যতে সমস্যা এড়ানোর উপায়

✅ গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
✅ যদি জন্মের পর লিঙ্গের গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারকে দেখানো।
✅ শিশুর লিঙ্গ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা, যাতে সংক্রমণ না হয়।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

হাইপোসপেডিয়াস(Hypospadias) কেন হয়?

হাইপোস্পাডিয়াস হলো একটি জন্মগত অবস্থা, যেখানে ছেলেশিশুর মূত্রনালীর ছিদ্র (মেআটাস) পুরুষাঙ্গের আগার স্বাভাবিক জায়গায় না থেকে নিচের দিকে থাকে। এটি হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে।
হাইপোস্পাডিয়াস কেন হয়?

এর সঠিক কারণ সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট নয়, তবে কিছু কারণ এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে—
1. জেনেটিক (Genetic) কারণ:
• পরিবারের কারও আগে এই সমস্যা থাকলে শিশুর হাইপোস্পাডিয়াস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
2. হরমোনজনিত সমস্যা:
• গর্ভাবস্থায় টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে শিশুর জননাঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
3. পরিবেশগত কারণ:
• কিছু রাসায়নিক পদার্থ, যেমন এন্ডোক্রাইন ডিজরাপ্টর (Endocrine Disruptors), যা প্লাস্টিক, কীটনাশক বা প্রসাধনীতে থাকতে পারে, তা গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
4. মায়ের বয়স ও স্বাস্থ্য:
• বেশি বয়সে মা হওয়া, ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ সেবন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
5. অজ্ঞাত কারণ:
• অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

চিকিৎসা:

হাইপোস্পাডিয়াস সাধারণত সার্জারির মাধ্যমে ঠিক করা যায়, এবং এটি শিশুর প্রস্রাব করার ও ভবিষ্যতে যৌন কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

শিশুসার্জন #শিশুসার্জারি #শিশু_ইউরোলজি

day_care_surgery #circumcision #best_pediatric_surgeon

nazmul #খতনা #খাতনা  #শিশুহাসপাতাল#congenitalঅনমালি

drnazmul #ডাঃ_নাজমুল

হার্নিয়া #হার্নিয়ালক্ষণ #মুসলমানি #Hypospadias #হাইপোসপেডিয়াস #শিশুহাসপাতাল #শিশু_ইউরোলোজিস্ট

pediatric_urology

জিহ্বা বন্ধন (Tongue-tie)

জিহবা জড়তা/ টাং টাই (Tongue Tie)

জিহ্বা বন্ধন বা “এনকিলোগ্লোসিয়া (Ankyloglossia)” হলো একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে জিহ্বার নিচের অংশের ফ্রেনুলাম (একটি ছোট টিস্যু ব্যান্ড) স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট বা শক্ত হয়। ফলে জিহ্বার নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়।

লক্ষণ:

১. শিশুদের ক্ষেত্রে:

মায়ের বুকের দুধ ভালোভাবে চুষতে না পারা

দুধ পান করার সময় চট করে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া

দুধ পান করতে গিয়ে অস্বস্তি বা কান্না করা

  1. শিশু ও বড়দের ক্ষেত্রে:

জিহ্বা সহজে উপরে বা পাশে নড়াতে না পারা

জিহ্বা বাইরে বের করতে অসুবিধা হওয়া

“ল” বা “র” উচ্চারণ করতে সমস্যা হওয়া

খাওয়ার সময় কিছু খাবার চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হওয়া

বাড়িতে কীভাবে পরীক্ষা করা যায়?

✅ জিহ্বা বের করে দেখতে বলো। যদি সে জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে আনতে না পারে, তাহলে Tongue-tie থাকতে পারে।
✅ জিহ্বা দিয়ে উপরের তালু স্পর্শ করতে বলো। যদি এটি করতে অসুবিধা হয়, তাহলে এটি একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
✅ “ল”, “র”, “ট” ধ্বনি উচ্চারণ করাতে চেষ্টা করো। যদি সমস্যা হয়, তাহলে Tongue-tie থাকতে পারে

কারণ:

জিহ্বার নিচের ফ্রেনুলাম সাধারণত ভ্রূণ অবস্থায় আলগা হয়ে যায়, কিন্তু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এটি আলগা না হয়ে শক্তভাবে লেগে থাকে, যার ফলে জিহ্বার নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয়।

সমস্যার প্রভাব:

যদি এটি গুরুতর হয়, তাহলে—

শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ খেতে অসুবিধা হয় এবং ওজন কমতে পারে।

বড়দের ক্ষেত্রে কথা বলা বা খাওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে।

চিকিৎসা:

সবসময় চিকিৎসার দরকার হয় না, কারণ অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জিহ্বার বন্ধন স্বাভাবিকভাবে আলগা হয়ে যায়। তবে যদি সমস্যা বেশি হয়, তাহলে—

  1. ফ্রেনুলোটমি (Frenulotomy): এটি একটি ছোট্ট সার্জারি, যেখানে ডাক্তার একটি ছোট কাট দিয়ে জিহ্বাকে মুক্ত করে দেন।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
এমবিবিএস,  এমএস( শিশু সার্জারী)
মেম্বার হাইপোসপেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ 
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

শিশুসার্জন #শিশুসার্জারি #শিশু_ইউরোলজি

day_care_surgery #circumcision #best_pediatric_surgeon #Hypospadiascare

nazmul #খতনা #খাতনা #হাইপোসপেডিয়াস #শিশুহাসপাতাল#congenitalঅনমালি

drnazmul #ডাঃ_নাজমুল#Hypospadias

হার্নিয়া #হার্নিয়া_লক্ষণ #মুসলমানি #খতনা #অন্ডকোষ #hirschsprungsdisease

শিশুর বমি: vomiting

শিশুর বমি: কারণ, করণীয় ও প্রতিকার

শিশুর বমি সাধারণত স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, তবে কখনো কখনো এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

🟠 শিশুর বমির সাধারণ কারণ:

১. অতিরিক্ত খাওয়া বা গ্যাসের সমস্যা
• নবজাতক বা ছোট শিশু যদি বেশি খেয়ে ফেলে, তাহলে দুধ বা খাবার হজম করতে না পেরে বমি করতে পারে।
• খাবারের পরপরই নড়াচড়া করলে বা ঝাঁকুনি লাগলে বমি হতে পারে।

২. ভাইরাস বা সংক্রমণ (Viral Gastroenteritis)
• শিশুর পেটে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ (পেটের ইনফেকশন) হলে বমি হতে পারে।
• সাধারণত এই অবস্থায় পাতলা পায়খানা (ডায়রিয়া), জ্বর ও পেট ব্যথা দেখা দেয়।

3. খাদ্যে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা
• কিছু শিশু গরুর দুধ, ডিম, সয়াবিন বা অন্যান্য খাবারের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে, যা বমির কারণ হতে পারে।

4. ফিডিং সমস্যা (Reflux বা GERD)
• ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পেটে থাকা খাবার ফিরে গলায় উঠে আসতে পারে, যাকে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD) বলা হয়।

5. খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning)
• যদি শিশুর খাবারে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থাকে, তবে বমির সঙ্গে ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা হতে পারে।

6. অন্যান্য কারণ:
• জ্বর ও সর্দি-কাশির সময় শিশুর বমি হতে পারে।
• প্রস্রাবের ইনফেকশন, Septicemia, Meningitis
• অন্ত্রের বাঁধা (Intestinal Obstruction): যদি বমির রঙ সবুজ বা রক্ত মিশ্রিত হয়, তবে এটি মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
• Appendicitis

🟢 শিশুর বমি হলে করণীয়:

✅ সাধারণ বমির জন্য (যদি শিশুর অবস্থা গুরুতর না হয়)

✔ শিশুকে হাইড্রেট রাখুন:
• ORS (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) বা স্যালাইন পানি দিন।
• বুকের দুধ খাওয়ান (যদি নবজাতক হয়)।

✔ খাবার ধীরে ধীরে দিন:
• চিনি ছাড়া ডাল বা ভাতের মাড় খাওয়ানো যেতে পারে।
• মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

✔ শিশুকে বিশ্রামে রাখুন:
• অতিরিক্ত নড়াচড়া করলে বমির প্রবণতা বাড়তে পারে।

✔ ধাপে ধাপে তরল দিন:
• বমি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খুব বেশি খাবার বা পানি একসাথে খাওয়াবেন না।

❌ যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত:

🚫 একবারে অনেক খাবার খাওয়াবেন না।
🚫 বাজারের এন্টিবায়োটিক বা বমি বন্ধের ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দেবেন না।

🔴 কখন ডাক্তার দেখাবেন?

👉 শিশুর বমির পাশাপাশি নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান:
• শিশু অতিরিক্ত দুর্বল বা পানি শূন্য (ডিহাইড্রেশন) হয়ে যাচ্ছে (শুকনো ঠোঁট, কান্নায় জল না আসা, প্রস্রাব কম হওয়া)।
• বমির রঙ সবুজ বা রক্ত মিশ্রিত।
• টানা ১২-২৪ ঘণ্টা ধরে বারবার বমি হচ্ছে।
• শিশুর পেট ব্যথা বেশি হচ্ছে বা পেট ফুলে যাচ্ছে।
• উচ্চ জ্বর (১০২°F বা তার বেশি) আছে।

🔹 উপসংহার:

✅ শিশু যদি সাধারণ কারণে বমি করে, তবে ওআরএস, পর্যাপ্ত পানি ও হালকা খাবার দিলেই ভালো হয়ে যায়।
🚨 কিন্তু যদি বমির রঙ অস্বাভাবিক হয়, দীর্ঘসময় ধরে চলে, বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ থাকে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং(ইন্ডিয়া)
ইউরোলজি ট্রেনিং (BSMMU)
নবজাতক, শিশু-কিশোর সার্জারী বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

#শিশু_সার্জন #শিশু_সার্জারি #শিশু_ইউরোলজি
#day_care_surgery #circumcision #best_pediatric_surgeon #Hypospadiascare
#nazmul #খতনা #খাতনা #হাইপোসপেডিয়াস #শিশু_হাসপাতাল#congenital_অনমালি
#drnazmul #ডাঃ_নাজমুল#Hypospadias
#হার্নিয়া #হার্নিয়া_লক্ষণ #মুসলমানি #খতনা #অন্ডকোষ #hirschsprungsdisease #বমি #vomiting

হার্শপ্রাং ডিজিজ (Hirschsprung Disease)

হার্শপ্রাং রোগ (Hirschsprung’s Disease) কারন , লক্ষণ ও চিকিৎসা

হার্শপ্রাং ডিজিজ (Hirschsprung Disease) হলো একটি জন্মগত অন্ত্রের সমস্যা, যেখানে শিশুর বৃহৎ অন্ত্রের (কোলন) কিছু অংশ স্নায়ুকোষ (ganglion cells) ছাড়া থাকে। ফলে সেই অংশ মল সরানোর জন্য সংকোচন (peristalsis) করতে পারে না, যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের ব্লকেজ তৈরি হয়।

হার্শপ্রাং রোগের কারণ: ✅️

হার্শপ্রাং রোগের মূল কারণ হলো স্নায়ুকোষের (ganglion cells) অনুপস্থিতি, যা গর্ভাবস্থায় অন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশের সময় গঠিত হয় না।
• জেনেটিক কারণ:
• প্রায় ২০% ক্ষেত্রে এটি পারিবারিক বা বংশগত হয়ে থাকে।
• কিছু নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন (RET gene mutation) এই রোগের জন্য দায়ী।
• ডাউন সিনড্রোম (Down Syndrome) এবং অন্যান্য জেনেটিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হিরশস্প্রুং রোগ বেশি দেখা যায়।
• অন্ত্রের নার্ভের অসম্পূর্ণ বিকাশ:
• ভ্রূণের বিকাশের সময় ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে নার্ভ সিস্টেম তৈরি হয়।
• যদি স্নায়ুকোষ অন্ত্রের শেষ অংশ পর্যন্ত না পৌঁছায়, তবে সেই অংশ সংকুচিত হয়ে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে মল সরাতে পারে না।

হার্শপ্রাং রোগের লক্ষণ: ✅️

লক্ষণগুলো শিশুর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে:

১. নবজাতকের ক্ষেত্রে:
• জন্মের ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মলত্যাগ না করা (Meconium Pass না হওয়া)
• পেট ফোলা ও শক্ত হয়ে যাওয়া
• বমি হওয়া (সবুজ বা হলুদ রঙের)
• খেতে না চাওয়া ও অতিরিক্ত কান্না করা

২. বড় শিশুর ক্ষেত্রে:
• দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic Constipation)
• পেট ব্যথা ও গ্যাস জমে থাকা
• মলত্যাগে কষ্ট ও পাতলা ডায়রিয়ার মতো মল (Overflow Diarrhea)
• ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে না ওঠা

৩. জটিলতা থাকলে:
• এন্টারোকোলাইটিস (Enterocolitis):
• অন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।
• লক্ষণ: উচ্চ জ্বর, রক্ত-মিশ্রিত পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা ও ফোলা
• জীবন-হানিকর হতে পারে, তাই জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

হার্শপ্রাং রোগের ডায়াগনোসিস (নির্ণয়): ✅️

১. এনামা এক্স-রে (Barium Enema X-ray):
• কোলনে ব্যারিয়াম ডাই প্রবেশ করিয়ে এক্স-রে করা হয়, যাতে ব্লকেজ ও সংকোচন ধরা পড়ে।

২. রেক্টাল ম্যানোমেট্রি (Rectal Manometry Test):
• অন্ত্রের রেক্টামে একটি বেলুন ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া না থাকলে এটি হিরশস্প্রুং রোগের ইঙ্গিত দেয়।

৩. বায়োপসি (Rectal Biopsy) – সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা:
• অন্ত্রের ভেতর থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যাতে নার্ভ কোষের অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

চিকিৎসা: ✅️

হার্শপ্রাং রোগের সার্জারি

এই রোগের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার (Surgery)।

১. পুল-থ্রু সার্জারি (Pull-through Surgery):
• আক্রান্ত অন্ত্রের অংশ কেটে ফেলে সুস্থ অংশকে সংযুক্ত করা হয়।
• বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি একবারেই কার্যকর হয়।

২. কোলস্টমি বা আইলিওস্টমি (Colostomy/Ileostomy) – গুরুতর ক্ষেত্রে:
• যদি শিশু মারাত্মক অসুস্থ হয়, তাহলে প্রথমে অন্ত্রের সুস্থ অংশকে পেটের বাইরে একটি ছিদ্রের (স্টোমা) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়, যাতে মল সহজে বাহির হতে পারে।
• পরবর্তী সময়ে পুল-থ্রু সার্জারি করে অন্ত্রকে স্বাভাবিক করা হয়।

সার্জারির পর জীবনযাত্রা ও যত্ন: ✅️

১. খাদ্যাভ্যাস:

✔ প্রচুর পানি পান করানো – কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক।
✔ আঁশযুক্ত খাবার (ফল, সবজি, দই) – অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
✔ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কমানো – কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।

২. টয়লেট ট্রেনিং:

✔ নিয়মিত টয়লেট করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
✔ কিছু শিশু সার্জারির পর মল ধরে রাখতে কষ্ট পেতে পারে, তাই ধৈর্য ধরতে হবে।

৩. ইনফেকশন প্রতিরোধ:

✔ সার্জারির পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
✔ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলো-আপ করা।

হার্শপ্রাং রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ✅️

✔ সঠিক চিকিৎসা পেলে বেশিরভাগ শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
✔ কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কোষ্ঠকাঠিন্য বা মল ধরে রাখার সমস্যা থাকতে পারে, তবে এটি চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
✔ গুরুতর জটিলতা এড়াতে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ❇️❇️❇️

ডাঃ এস, এম, নাজমুল ইসলাম
পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি ট্রেনিং (ইন্ডিয়া)
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।
Hotline: 01777331511
www.drnazmulislam.com

চেম্বারঃ
অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড
২৪/৩ খিলজী রোড (রিং রোড)
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭
রুগি দেখার সময়ঃ বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭: ০০টা।
(শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন)

শিশুসার্জন #শিশুসার্জারি #শিশু_ইউরোলজি

day_care_surgery #circumcision #best_pediatric_surgeon #Hypospadiascare

nazmul #খতনা #খাতনা #হাইপোসপেডিয়াস #শিশুহাসপাতাল#congenitalঅনমালি

drnazmul #ডাঃ_নাজমুল#Hypospadias

হার্নিয়া #হার্নিয়া_লক্ষণ #মুসলমানি #খতনা #অন্ডকোষ #হার্শপ্রাং #Hirschsprungdisease